১৭৫ জন অন্ধ ও এতিম শিশুর এক বেলার খাবারের ব্যবস্থা করা অত্যন্ত বিশাল এবং সৌভাগ্যের একটি কাজ। ইসলামে এতিম এবং অন্ধ বা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সেবা করার ব্যাপারে এবং ক্ষুধার্তকে অন্ন দেওয়ার বিষয়ে অত্যন্ত উচ্চ মর্যাদা ও পুরস্কারের কথা বলা হয়েছে।
হাদিসের আলোকে এই মহান কাজের গুরুত্ব এবং প্রতিদান নিচে তুলে ধরা হলো:
১. রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সাথে জান্নাতে থাকার সৌভাগ্য
রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজে একজন এতিম ছিলেন এবং তিনি এতিমের লালন-পালন ও সহায়তাকারীকে জান্নাতে তাঁর একদম কাছাকাছি থাকার সুসংবাদ দিয়েছেন।
রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেছেন: “আমি এবং এতিমের ভরণপোষণকারী জান্নাতে এভাবে থাকব।” এই বলে তিনি তাঁর তর্জনী ও মধ্যমা আঙুল দিয়ে ইশারা করলেন এবং এ দুটির মধ্যে সামান্য ফাঁক রাখলেন। (সহীহ বুখারী, হাদিস নম্বর: ৫৩০৪)
২. ইসলামের সর্বোত্তম আমল (ক্ষুধার্তকে খাবার দেওয়া)
১৭৫ জন ক্ষুধার্ত শিশুকে খাবার খাওয়ানো ইসলামের অন্যতম সেরা এবং আল্লাহর কাছে অত্যন্ত প্রিয় একটি আমল।
এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলেন, “ইসলামের কোন আমলটি সবচেয়ে উত্তম?” তিনি বললেন: “তুমি মানুষকে খাবার খাওয়াবে এবং চেনা-অচেনা সবাইকে সালাম দেবে।” (সহীহ বুখারী, হাদিস নম্বর: ১২)
৩. অন্ধ বা প্রতিবন্ধী মানুষের সেবার মর্যাদা
ইসলামে অন্ধ বা দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ভাই-বোনদের সাহায্য করাকে সদকার সমতুল্য করা হয়েছে। যে ব্যক্তি কোনো অন্ধ মানুষকে পথ দেখায় বা তার প্রয়োজন পূরণ করে, আল্লাহ তার প্রতি সন্তুষ্ট হন।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: “কোনো দৃষ্টিহীন (অন্ধ) মানুষকে পথ দেখানো তোমার জন্য একটি সদকা।” (জামে আত-তিরমিজি)
সুতরাং, ১৭৫ জন শিশু যারা একদিকে এতিম এবং অন্যদিকে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী, তাদের মুখে খাবার তুলে দেওয়া দ্বিগুণ সওয়াবের কারণ।
৪. মনের কঠোরতা দূর হওয়া ও অভাব পূরণ হওয়া
যাঁরা মন ভালো রাখতে চান বা জীবনের কঠিন পরিস্থিতিতে আল্লাহর সাহায্য চান, তাঁদের জন্য এতিমের সেবা করা একটি মহৌষধ।
এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে তার মনের কঠোরতার (হতাশা বা নিষ্ঠুরতা) অভিযোগ করলে তিনি বলেন: “যদি তুমি তোমার মনকে নরম করতে চাও, তবে এতিমের মাথায় হাত বুলাও (স্নেহ করো) এবং মিসকিনকে খাবার খাওয়াও।” (মুসনাদে আহমাদ)
৫. জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি
অসহায়দের খাবার খাওয়ানো মানুষকে পরকালে কঠিন আজাব থেকে রক্ষা করবে।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা “আকাবা” বা কঠিন গিরিপথ অতিক্রম করার কথা বলেছেন। আর সেই গিরিপথ অতিক্রম করার অন্যতম প্রধান উপায় হলো— “দুর্ভিক্ষের দিনে খাবার দেওয়া, এতিম নিকটাত্মীয়কে অথবা ধূলি-ধূসরিত মিসকিনকে।” (সূরা আল-বালাদ, আয়াত: ১৪-১৬)