দৃষ্টি প্রতিবন্ধী এতিমখানা মাদ্রাসায় অনুদান দিন

Or
এখানে দান করার পেছনে রয়েছে বিশেষ কিছু মানবিক ও ধর্মীয় কারণ…

এখানে দান করার পেছনে রয়েছে বিশেষ কিছু মানবিক ও ধর্মীয় কারণ, যা আপনার দানকে অন্য যেকোনো জায়গার চেয়ে অনেক বেশি অর্থবহ ও বরকতময় করে তোলে:

১. দ্বিগুণ অসহায়ত্বের পাশে দাঁড়ানো (এতিম + দৃষ্টি প্রতিবন্ধী)

এই মাদ্রাসার শিশুরা দ্বিগুণ কষ্টের মধ্য দিয়ে বড় হচ্ছে। একদিকে তারা পিতৃহীন (এতিম), অন্যদিকে তারা দৃষ্টিহীন (প্রতিবন্ধী)। পৃথিবীর কোনো আলো বা সৌন্দর্য দেখার ভাগ্য ওদের হয়নি, আবার মাথার ওপর হাত রাখার মতো বাবাও নেই। এমন চরম অসহায় শিশুদের পাশে দাঁড়ানো সবচেয়ে বড় মানবিক দায়িত্ব।

২. অন্ধকারের জীবনে পবিত্র কুরআনের আলো ছড়ানো

চোখের আলো না থাকলেও এই শিশুদের অন্তরে রয়েছে কুরআনের আলো জ্বালানোর তীব্র আকুলতা। তারা ব্রেইল (উন্নত স্পর্শ পদ্ধতি) ও শ্রবণের মাধ্যমে অত্যন্ত কষ্ট করে মহান আল্লাহর বাণী মুখস্থ করছে। আপনার দানকৃত টাকায় একজন দৃষ্টিহীন শিশু যখন হাফেজ হবে, তখন তার প্রতিটি তিলাওয়াতের সওয়াব আপনার আমলনামায় যুক্ত হতে থাকবে।

৩. জান্নাতে রাসুলুল্লাহ (সাঃ)-এর সঙ্গী হওয়ার সুযোগ

রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন:

“আমি এবং এতিম প্রতিপালনকারী জান্নাতে এভাবে থাকবো— এই বলে তিনি নিজের তর্জনী ও মধ্যমা আঙুল দুটিকে সামান্য ফাঁক করে দেখালেন।” (সহীহ বুখারী)। একজন এতিম বাচ্চার দায়িত্ব নেওয়া মানে সরাসরি জান্নাতে নবীজির প্রতিবেশী হওয়ার সুযোগ পাওয়া।
৪. এটি একটি ‘সদকায়ে জারিয়া’ (স্থায়ী সওয়াব)
রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, মানুষ মারা যাওয়ার পর তার সব আমল বন্ধ হয়ে যায়, কেবল তিনটি মাধ্যম ছাড়া। তার মধ্যে একটি হলো ‘সদকায়ে জারিয়া’ বা চলমান দান। যতদিন এই মাদ্রাসা থাকবে, যতদিন এখানে অন্ধ শিশুরা কুরআন শিখবে ও দ্বীনের পথে চলবে, ততদিন (এমনকি আপনার মৃত্যুর পরও) কবরে আপনার সওয়াব পৌঁছাতে থাকবে।
৫. সম্পূর্ণ নির্ভরশীল ও লিল্লাহ বোর্ডিং ফান্ড
এই শিশুরা সম্পূর্ণ অসহায় এবং তারা মাদ্রাসার ফ্রি লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের (থাকা-খাওয়া, চিকিৎসা ও ব্রেইল বই) ওপর নির্ভরশীল। এদের নিজস্ব কোনো আয়ের উৎস নেই। আপনার দেওয়া যাকাত, ফিৎরা বা সদকার অর্থ সরাসরি এদের অন্ন, বস্ত্র ও শিক্ষার পেছনে ব্যয় হয়, যা যাকাত আদায়ের সবচেয়ে উত্তম খাত।

একটি ছোট আহ্বান: আজই আপনার সামর্থ্য অনুযায়ী একজন দৃষ্টিহীন এতিম শিশুর মাসিক বা আংশিক খরচের দায়িত্ব নিন। আপনার সামান্য অনুদান, ওদের অন্ধকারের পৃথিবীতে বেঁচে থাকার আলো দেখাতে পারে।