পবিত্র কুরআনের মূলনীতি
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা রোজার বিধান ফরজ করার পাশাপাশি এটি পূর্ণ করার কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহ বলেন:
ثُمَّ أَتِمُّوا الصِّيَامَ إِلَى اللَّيْلِ
অর্থ: “অতঃপর তোমরা রাত (সূর্যাস্ত) পর্যন্ত রোজা পূর্ণ করো।” (সূরা বাকারা: ১৮৭)
ব্যাখ্যা: এই আয়াতের মাধ্যমে আল্লাহ রোজা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পূর্ণ করার নির্দেশ দিয়েছেন। কোনো বৈধ কারণ ছাড়া এই ইবাদত মাঝপথে ভেঙে ফেলা আল্লাহর হুকুম অমান্য করার শামিল, যার জন্য ‘কাফফারা’ বা দণ্ড প্রদান আবশ্যক।
হাদিস শরীফের নির্দেশনা
রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর একটি প্রসিদ্ধ হাদিস থেকে রোজার কাফফারা আদায়ের সুনির্দিষ্ট নিয়ম ও পদ্ধতি জানা যায়। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত:
“এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে এসে বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আমি ধ্বংস হয়ে গেছি।’ রাসূলুল্লাহ (সা.) জিজ্ঞাসা করলেন, তোমার কী হয়েছে?’ তিনি বললেন, ‘আমি রমজানে রোজা অবস্থায় (ইচ্ছাকৃতভাবে) স্ত্রীর সাথে মিলিত হয়েছি।’ রাসূলুল্লাহ (সা.) তাকে জিজ্ঞেস করলেন,
‘তুমি কি একজন দাস মুক্ত করতে পারবে?’
তিনি বললেন, ‘না’। নবীজি বললেন,
তবে কি তুমি একটানা দুই মাস (৬০ দিন) রোজা রাখতে পারবে?’
তিনি বললেন, ‘না’। নবীজি পুনরায় বললেন,
‘তবে কি তুমি ৬০ জন মিসকিনকে খাওয়াতে পারবে?’ তিনি বললেন, ‘না’…” (সহীহ বুখারী: ১৯৩৬, সহীহ মুসলিম: ১১১১)
হাদিসের শিক্ষা: এই হাদিসটি রোজার কাফফারার প্রধান ভিত্তি। এখান থেকে তিনটি ধাপ স্পষ্ট হয়:
১. একজন দাস মুক্ত করা (বর্তমানে এই প্রথা নেই)।
২. বিরতিহীনভাবে একটানা ৬০টি রোজা রাখা।
৩. যদি শারীরিক অক্ষমতার কারণে রোজা রাখা সম্ভব না হয়, তবে ৬০ জন মিসকিনকে আহার করানো।
কাফফারা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ শরয়ি মাসআলা
ইচ্ছাকৃত পানাহার: ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে, কেউ যদি রোজা অবস্থায় ইচ্ছাকৃতভাবে কিছু পান বা আহার করে, তবে তার ওপরও এই কাফফারা (৬০টি রোজা বা ৬০ জন মিসকিনকে খাওয়ানো) ওয়াজিব হবে।
ধারাবাহিকতা: কাফফারার ৬০টি রোজা রাখার ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা রক্ষা করা শর্ত। অর্থাৎ মাঝে একদিনও বাদ দিলে পুনরায় প্রথম থেকে শুরু করতে হবে।
মিসকিনকে খাদ্যদান: যারা বৃদ্ধ বা দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতার কারণে ৬০টি রোজা রাখতে পারবেন না, তারা ৬০ জন মিসকিনকে দুই বেলা তৃপ্তি ভরে খাওয়াবেন অথবা এর সমপরিমাণ অর্থ (সদকাতুল ফিতরের সমপরিমাণ) দান করবেন।
মজান মাসের প্রতিটি রোজা রাখা একজন সুস্থ ও প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমানের ওপর ফরজ। কোনো ওজর বা যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া ইচ্ছাকৃতভাবে রমজানের রোজা ভেঙে ফেলা একটি বড় গুনাহ। ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী, এই ভুলের সংশোধনের জন্য কেবল তওবা যথেষ্ট নয়, বরং এর জন্য কঠোর শাস্তিস্বরূপ ‘কাফফারা’ আদায় করা ওয়াজিব।
রোজা ভাঙার কাফফারা কী?
কাফফারা হলো সেই ক্ষতিপূরণ বা প্রায়শ্চিত্ত যা একজন মুমিনকে তার ইচ্ছাকৃতভাবে রোজা ভঙ্গের কারণে প্রদান করতে হয়। এটি আল্লাহর বিধানের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং নিজের নফসের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার একটি পরীক্ষা।
কখন কাফফারা ওয়াজিব হয়?
যদি কোনো ব্যক্তি সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত রোজার নিয়ত করার পর ইচ্ছাকৃতভাবে কিছু পানাহার করেন বা স্ত্রীর সাথে সহবাসে লিপ্ত হন, তবে তার ওপর কাফফারা ওয়াজিব হবে।
(মনে রাখবেন: অসুস্থতা বা ভ্রমণের কারণে রোজা ভাঙলে কেবল কাজা (১টি রোজা) করলেই হয়, কাফফারা লাগে না। কিন্তু বিনা কারণে ভাঙলে কাফফারা বাধ্যতামূলক।)
কাফফারা আদায়ের উপায় (শরিয়াহর ক্রম অনুযায়ী):
পবিত্র হাদিস ও ফিকাহ শাস্ত্র অনুযায়ী, একটি রোজা ইচ্ছাকৃতভাবে ভাঙার বিপরীতে কাফফারা আদায়ের নিয়ম হলো:
১. টানা ৬০টি রোজা রাখা: বিরতিহীনভাবে একটানা ৬০ দিন রোজা রাখতে হবে। মাঝে একদিনও বাদ গেলে পুনরায় ১ থেকে শুরু করতে হবে।
২. খাদ্য দান (অক্ষমদের জন্য): যদি বার্ধক্য বা স্থায়ী অসুস্থতার কারণে কারো পক্ষে টানা ৬০টি রোজা রাখা একেবারেই সম্ভব না হয়, তবে তাকে ৬০ জন মিসকিনকে দুই বেলা তৃপ্তি ভরে খাওয়াতে হবে।
খরচের হিসাব:
যেহেতু ১ জন মানুষের দুই বেলার খাবার খরচ ২২০ টাকা, তাই ১টি রোজা ইচ্ছাকৃতভাবে ভাঙলে ৬০ জন মানুষের খাবারের খরচ হবে:
- ১টি রোজার কাফফারা: ২২০ × ৬০ = ১৩,২০০ টাকা।
- দৃষ্টি প্রতিবন্ধী এতিমখানা মাদ্রাসা: ১টি রোজার কাফফারা প্রদানের মাধ্যমে আপনি একসাথে ৬০ জন ক্ষুধার্ত মানুষের মুখে এক দিনের আহার তুলে দিচ্ছেন। এটি আপনার গুনাহের মাফ চাওয়ার পাশাপাশি একটি বিশাল সামাজিক সেবামূলক কাজ।
- দৃষ্টি প্রতি এতিমখানা কেন আপনার কাফফারা দেবেন?
কাফফারার মূল উদ্দেশ্য হলো দরিদ্র ও ক্ষুধার্ত মানুষের অন্নসংস্থান করা। মাস্তুল ফাউন্ডেশন আপনার এই ইবাদত ও দায়বদ্ধতা পালনে বিশ্বস্ত সহযোগী হিসেবে কাজ করে। - ৬০ জন মিসকিনের আহার: আপনার একটি রোজার কাফফারার সমপরিমাণ অর্থ দিয়ে আমরা নিয়ম অনুযায়ী ৬০ জন অসহায় ও এতিম মানুষের পুষ্টিকর খাবারের ব্যবস্থা করি।
- সঠিক হকদার নির্বাচন: আমাদের শেল্টার হোমের এতিম শিশু এবং রাস্তার ধারের অনাহারী মানুষদের আমরা আপনার কাফফারার খাবার পৌঁছে দেই।
- রমজানের বিশেষ প্রজেক্ট: আপনার কাফফারার টাকায় রমজান মাসে অনেক দুস্থ পরিবার সেহরি ও ইফতারের সুযোগ পায়।
- কাফফারা আদায় করুন আজই
ভুল বা অবহেলায় ঘটে যাওয়া গুনাহের জন্য অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর পথে ফিরে আসার এটাই সুযোগ। আপনার কাফফারা প্রদানের মাধ্যমে আপনি যেমন নিজের ধর্মীয় দায়িত্ব পালন করছেন, তেমনি একজন ক্ষুধার্ত মানুষের মুখে হাসি ফোটাচ্ছেন।
“ভুলের অনুশোচনা হোক অন্যের মুখে আহার।”
দৃষ্টি প্রতিন্ধী এতিমখানা মাদ্রাসায় আপনার আমানত সঠিক মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।