আমরা কেন মানুষকে সাহায্য করবো?
১. পবিত্র কুরআনের আলোকে যাকাত
আল্লাহ তাআলা কুরআনের প্রায় ৩২ জায়গায় নামাজের সাথে সাথে যাকাতের কথা উল্লেখ করেছেন।
সূরা আল-বাক্বারাহ (আয়াত ৪৩):
“তোমরা নামাজ কায়েম করো এবং যাকাত প্রদান করো এবং রুকুকারীদের সাথে রুকু করো।”
সূরা আত-তাওবাহ (আয়াত ১০৩):
“তাদের সম্পদ থেকে ‘সদকা’ (যাকাত) গ্রহণ করুন, যার মাধ্যমে আপনি তাদের পবিত্র করবেন এবং পরিশোধিত করবেন।”
সূরা আল-বাকারাহ (আয়াত ২৭৭):
“নিশ্চয়ই যারা ঈমান এনেছে, সৎকাজ করেছে, নামাজ কায়েম করেছে এবং যাকাত দিয়েছে, তাদের জন্য তাদের রবের কাছে প্রতিদান রয়েছে। তাদের কোনো ভয় নেই এবং তারা চিন্তিতও হবে না।”
সূরা আত-তাওবাহ (আয়াত ৬০) – যাকাত বণ্টনের খাত:
“যাকাত কেবল ফকির, মিসকিন, যাকাত আদায়কারী কর্মচারী, যাদের অন্তর জয় করা প্রয়োজন, দাস মুক্তি, ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি, আল্লাহর পথে (জিহাদ ও দ্বীনের কাজ) এবং মুসাফিরদের জন্য। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।”
২. হাদিস শরীফের আলোকে যাকাত
রাসূলুল্লাহ (সা.) যাকাত আদায়ের সুসংবাদ এবং অনাদায়ে কঠিন পরিণতির কথা উল্লেখ করেছেন।
ইসলামের ভিত্তি:
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “ইসলামের ভিত্তি পাঁচটি স্তম্ভের ওপর, এ সাক্ষ্য দেওয়া যে আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ (সা.) তাঁর বান্দা ও রাসূল, নামাজ কায়েম করা, যাকাত প্রদান করা, হজ করা এবং রমজানের রোজা রাখা।” (সহীহ বুখারী ও মুসলিম)
সম্পদ পবিত্র হওয়া:
“যখন তুমি তোমার সম্পদের যাকাত আদায় করলে, তখন তুমি তোমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করলে (এবং সম্পদকে অপবিত্রতা থেকে বাঁচালে)।” (সুনানে তিরমিজি)
যাকাত দাতার মর্যাদা:
“দান-সদকা বা যাকাত দিলে সম্পদ কমে না।” (সহীহ মুসলিম)
যাকাত অনাদায়ে সতর্কতা:
“যাকে আল্লাহ সম্পদ দিয়েছেন কিন্তু সে তার যাকাত আদায় করেনি, কিয়ামতের দিন সেই সম্পদকে একটি বিষধর সাপের রূপ দেওয়া হবে, যা তার গলায় পেঁচিয়ে দেওয়া হবে এবং সাপাটি তার দুই চোয়ালে দংশন করতে থাকবে আর বলবে – আমিই তোমার ধন, আমিই তোমার সঞ্চিত সম্পদ।” (সহীহ বুখারী)
যাকাত ইসলামের মৌলিক পাঁচটি স্তম্ভের একটি এবং এটি দরিদ্র ও অসহায় মানুষের ন্যায্য অধিকার। কুরআনে যাকাত অনাদায়ে কঠোর শাস্তির কথা ঘোষণা করা হয়েছে, যা প্রমাণ করে যাকাত কেবল একটি ব্যক্তিগত ইবাদত নয়, বরং এটি একটি সামাজিক দায়িত্ব ও ন্যায়বিচারের অনিবার্য অংশ।
যাকাত কোনো করুণা নয়, বরং বিত্তশালীদের সম্পদে অভাবী মানুষের অধিকার। মাস্তুল ফাউন্ডেশন গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে স্বচ্ছতা ও বিশ্বস্ততার সাথে যাকাত ব্যবস্থাপনায় কাজ করে আসছে। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো – “যাকাত গ্রহীতাকে যাকাত দাতায় রূপান্তরিত করা।” অর্থাৎ, যাকাতের অর্থ এমনভাবে ব্যবহার করা যাতে একজন মানুষ সারা জীবন অভাবী না থেকে নিজেই নিজের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারে।
কেন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী এতিমখানায় যাকাত ব্যবস্থাপনা অনন্য?
১. শরীয়াহ বোর্ড ও তদারকি: আমাদের যাকাত সংগ্রহ ও বিতরণ প্রক্রিয়া অভিজ্ঞ আলেমদের পরামর্শ ও শরীয়াহর নীতিমালা অনুযায়ী পরিচালিত হয়। প্রতিটি খাত কুরআন ও সুন্নাহ নির্দেশিত আটটি খাতের (আসনাফ) অন্তর্ভুক্ত কি না, তা কঠোরভাবে যাচাই করা হয়।